চাল কুমড়া ভাজি

পুর ভরা চাল কুমড়া ভাজি / পুর ভরা চাল কুমড়ো বড়া

চাল কুমড়া ভাজি একটি ট্রেডিশনাল খাবার।

কিন্তু বর্তমানে আস্তে আস্তে এই খাবারগুলো উঠেই চলে গেছে।

ভিতর সরিষার বাটা পুর দিয়ে এ চাল কুমড়ো ভাজি যে কতটা স্বাদ, তা তৈরী না করলে বুঝবেন না।

এই চাল কুমড়া ভাজি দিয়ে আপনি অনায়াসে এক প্লেট ভাত খেয়ে ফেলতে পারবেন।

এমন কি এই চাল কুমড়াে বড়াটা  বিকেলে চায়ের সাথে নাস্তা হিসেবে রাখতে পারেন।

খাওয়ার পরে দেখবেন যে আসলে কতটা তৃপ্তি পেয়েছে সবাই।

স্বল্প উপকরণ দিয়ে চাল কুমড়ো বড়া তৈরি করা যায়। তাহলে চলুন জেনে নেই এই ট্রেডিশনাল চাল কুমড়া ভাজি রেসিপি –

চাল কুমড়া ভাজি তৈরী উপকরণ :

  • চাল কুমড়ো – অর্ধেকটি( মাঝারি সাইজের একটি চাল কুমড়ো মাঝখান দিয়ে কেটে নিয়েছি)
  • সরিষা বাটা – ২টেবিল চামচ
  • কাঁচামরিচ বাটা -১  টেবিল চামচ
  • পেঁয়াজকুচি – ১ টেবিল চামচ
  • লবণ  – স্বাদমতো
  • শুকনো মরিচ  -১/২  চা চামচ
  • সরিষার তেল – ১ টেবিল চামচ ( পুর তৈরীর জন্য)
  • তেল  -১/২ কাপ ( ভাজার জন্য)
  • চালের গুঁড়া  -২ টেবিল চামচ
  • বেসন -১ টেবিল চামচ
  • কালোজিরা – ১  চামচ
  • হলুদ গুঁড়া -১ চামচ
  • লবণ -স্বাদমতো( একটি ব্যাটার তৈরীর জন্য)
  • রসুন বাটা -১ চামচ

 চাল কুমড়া ভাজি প্রণালী :

প্রথমে অর্ধেকটা চাল কুমড়ো কে ভালোভাবে ছিলে নিতে হবে।
এখন এই চাল কুমড়োটাকে এক পাশে একটু দাগ দিতে হবে।
দাগটা এমন হবে যেন চাল কুমড়ো টা টুকরো না হয়ে যায়।
এখন এই দাগটার সাথে আরেকটা দাগ কেটে নিতে হবে যেন এই চাল কুমড়ো টুকরো হয়।
এখন দেখা যাবে যে এই টুকরো এর মাঝখানে একটা ফাঁকা জায়গায় আছি।
এই ফাকার মধ্যেই আমরা পুর দিয়ে  নিব।
এমন করে পুরোটা চাল কুমড়ো কেটে নিব।
কাটা হয়ে গেলে এগুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে ছাকনির মধ্যে নিয়ে নিতে হবে।
যেন এক্সট্রা পানি চলে যায়। এখন চুলা একটি কড়াই বসিয়ে দিতে হবে।
চাল কুমড়া ভাজি রেসিপি
তারপর এক টেবিল চামচ তেল দিয়ে দিতে হবে।
তেল গরম হয়ে আসে কুচি করে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিতে হবে।
পেঁয়াজ যখন হালকা নরম হয়ে আসবে তখন একে একে কাঁচামরিচ বাটা, সরিষা বাটা, রসুন বাটা, স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিতে হবে।
এখন সবগুলো উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মেশানো হয়ে গেলে এই পুরটাকে তুলে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
এখন একটি বাটি নিয়ে নিতে হবে। এই বাটির মধ্যে বেসন, চালের গুঁড়া, কালোজিরা, হলুদ গুঁড়া, ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিতে হবে।
তারপর সবগুলো উপকরণ হাত দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
এখন অল্প অল্প পানি দিয়ে একটি ব্যাটার তৈরি করে নিতে হবে।

ব্যাটার টা আলুর চপ এর জন্য আমরা যে বেসন গুলে এরকম হয়ে থাকবে।

এখন আগে থেকে কেটে ধুয়ে রাখা চাল কুমড়ো গুলোকে হালকা একটু লবণ মাখিয়ে নিতে হবে।
তারপর একটি চামচের সাহায্যে এ চাল কুমড়ো মাঝখানে তৈরি করা পুর দিয়ে দিতে হবে।
এমন করে প্রতিটি চাল কুমড়োর মাঝখানে তৈরি করা রাখা পুর দিয়ে দিতে হবে।
এখন চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে হাফ কাপ পরিমাণ তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। গরম হয়ে আসলে পুর ভরা একটি চাল কুমড়ো নিয়ে বেসন ও চালের গুড়া দিয়ে তৈরি করে রাখা ব্যাটারির মধ্যে চুবিয়ে নিতে হবে।
চুবানোর শেষ হয়ে গেলে সরাসরি তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে।
এমন করে প্রতিটি চাল কুমড়ো চুবিয়ে তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে। তখন চুলার আঁচ মাঝারি আছে থাকবে।
এখন একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যখন একপাশ হয়ে আসবে তখন উল্টে অন্যপাশ হালকা গোল্ডেন কালার করে ভেজে নিতে হবে।
এমন করার সবগুলো চাল কুমড়ো ভেজে নিতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে একটি টিস্যুর উপর এগুলো রেখে দিতে হবে।
যেন বাড়তি তেল গুলো শুষে নেয়। এখন গরম গরম ভাত বা চায়ের সাথে পরিবেশন করতে পারে।
দেখলেন তো কত সহজে মচমচে চাল কুমড়ার বড়া তৈরি করা যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সংশ্লিষ্ট আরো পোস্ট